বগুড়ার ধুনট উপজেলার প্রত্যন্ত মাঠপাড়া গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক নাঈম ইসলাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তার নেতৃত্বাধীন অ্যাকুয়ানার বগুড়া দল অর্জন করেছে দুটি স্বর্ণপদক। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের নয়, ধুনট, বগুড়া এবং সমগ্র বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ব উদ্ভাবন কাপ–২০২৬ এবং আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও আবিষ্কার প্রতিযোগিতা–২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে নাঈম ইসলামের দল।
এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৬টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪০০-এর অধিক দল এবং ১ হাজার ৩০০-এর বেশি উদ্ভাবক ও গবেষক অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করে মাত্র ৮টি দল। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, প্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তাধারা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করে অ্যাকুয়ানার বগুড়া দল।
মো. নাঈম ইসলাম বর্তমানে বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান ও রোবটিক্স ক্লাব বগুড়া (এসআরসিবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং অ্যাকুয়ানার বগুড়া দলের দলনেতা। তার সঙ্গে সফটওয়্যার উন্নয়নকারী হিসেবে কাজ করেছেন মো. আবু হোসেন। দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নাঈম ইসলামের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের অবদান, বিশেষ করে তার পিতা আব্দুল বাছেতের অকুণ্ঠ সমর্থন, অনুপ্রেরণা ও ত্যাগ। একজন আদর্শ ও দূরদর্শী অভিভাবক হিসেবে তিনি সবসময় ছেলের শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ জুগিয়েছেন। নাঈমের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবারের এই অবিচল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল নাঈম ইসলামের। সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। বরং কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি এগিয়ে গেছেন সাফল্যের পথে। তার এই অর্জন প্রমাণ করে যে মেধা, ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রম থাকলে গ্রামের একজন তরুণও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে।
নাঈম ইসলাম শুধু একজন উদ্ভাবক নন; তিনি তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিজ্ঞান ও রোবটিক্স ক্লাব বগুড়ার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণকে বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী সমাজ গড়ে তুলতে অবদান রাখা।
এই সাফল্যের খবরে আনন্দিত ও গর্বিত মাঠপাড়া গ্রাম, ধুনট উপজেলা এবং সমগ্র বগুড়াবাসী। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহল নাঈম ইসলাম ও তার দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার এই অর্জন দেশের হাজারো তরুণকে নতুন স্বপ্ন দেখতে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাঈম ইসলাম বলেন,
“বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন আমি দীর্ঘদিন ধরে লালন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই স্বপ্ন স্বর্ণপদকের গৌরবে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এই অর্জন আমি দেশের সকল তরুণ উদ্ভাবক, কারিগরি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসর্গ করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা বিশ্বমানের। সঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতেও দেশের জন্য আরও বড় অর্জন নিয়ে আসতে চাই এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে চাই।”
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ধুনটের মাঠপাড়া থেকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা: তরুণ উদ্ভাবক নাঈম ইসলামের ঝুলিতে দুটি স্বর্ণপদক
-
বাবুল ইসলাম - ০৮:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- 1375
জনপ্রিয়















