০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ধুনটে আদালতের আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত

বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি আবুল হোসেন-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় এক বিঘা জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে বিবাদীপক্ষকে ৬০ দিনের জন্য ওই সম্পত্তিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা অমান্য করে দখলচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আমজাদ হোসেন ফকির ও তাঁর লোকজন বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ও দখলীয় প্রায় এক বিঘা জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশফুন খাতুন বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বগুড়া আদালতে একটি মামলা (নং-৩২৫পি/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে মনে করেন। পরে তিনি বিতর্কিত ওই সম্পত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন।
আদালতের আদেশে বিদ্যালয়ের স্বত্ব ও দখলীয় সম্পত্তিতে বিবাদীপক্ষকে ৬০ দিনের জন্য প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ আইন অমান্য করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি আবুল হোসেন-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশফুন খাতুন বলেন, “আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও বিবাদীপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি আমাকে এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অপরপক্ষের আবু সাঈদ বলেন,জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুবিচার চেয়ে আমরাও আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”
ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন,আদালতের আদেশ পাওয়ার পর থানা থেকে বিবাদীপক্ষকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে বা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নালিশি সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

ধুনটে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব পালিত

ধুনটে আদালতের আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত

১২:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি আবুল হোসেন-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় এক বিঘা জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে বিবাদীপক্ষকে ৬০ দিনের জন্য ওই সম্পত্তিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা অমান্য করে দখলচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আমজাদ হোসেন ফকির ও তাঁর লোকজন বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ও দখলীয় প্রায় এক বিঘা জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশফুন খাতুন বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বগুড়া আদালতে একটি মামলা (নং-৩২৫পি/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে মনে করেন। পরে তিনি বিতর্কিত ওই সম্পত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন।
আদালতের আদেশে বিদ্যালয়ের স্বত্ব ও দখলীয় সম্পত্তিতে বিবাদীপক্ষকে ৬০ দিনের জন্য প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ আইন অমান্য করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি আবুল হোসেন-জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশফুন খাতুন বলেন, “আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও বিবাদীপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি আমাকে এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অপরপক্ষের আবু সাঈদ বলেন,জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুবিচার চেয়ে আমরাও আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”
ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন,আদালতের আদেশ পাওয়ার পর থানা থেকে বিবাদীপক্ষকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে বা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নালিশি সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।