১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ধুনটে যমুনার তীব্র স্রোতে শহরাবাড়ী স্পারের ৪০ মিটার ধস, বেড়েছে ভাঙন আতঙ্ক

বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহরাবাড়ী স্পারের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে যমুনার তীব্র স্রোত ও পানির চাপে স্পারের উত্তর পাশের অংশ ধসে পড়ে। এতে যমুনা তীরবর্তী শহরাবাড়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আটাচর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত ৭০০ মিটার দীর্ঘ শহরাবাড়ী স্পার নির্মাণ করা হয়। স্পারটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ভাটির এলাকার নদীতীরবর্তী মানুষ নদীভাঙনের হাত থেকে সুরক্ষা পেলেও, প্রায় প্রতি বছরই এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারাবাহিক ভাঙনের ফলে বর্তমানে স্পারটির দৈর্ঘ্য কমে প্রায় ২০০ মিটারে নেমে এসেছে।
রোববার সকালে পানির তীব্র স্রোতে স্পারের উত্তরাংশের প্রায় ৪০ মিটার সিসি ব্লক (স্যাংক) ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বালির টিউব ফেলে ধস রোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শহরাবাড়ী ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই স্পারের কারণেই শহরাবাড়ী ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু গত বছর ঘাটের একটি অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এ বছরও কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন স্পারের একটি অংশ ধসে পড়ায় আমরা আরও আতঙ্কিত। স্পারটি রক্ষা করা না গেলে শহরাবাড়ী গ্রামটি একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দেড় মাস ধরে স্পারের ভাটির দিকের শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র ২০০ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছে। এতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারা স্পার সংরক্ষণ এবং ভাটির এলাকায় স্থায়ী ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, রোববার সকালে শহরাবাড়ী স্পারের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বালির টিউব ফেলে ধস ঠেকানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ধুনট থানার এসআই মোস্তাফিজ প্রত্যাহার

ধুনটে যমুনার তীব্র স্রোতে শহরাবাড়ী স্পারের ৪০ মিটার ধস, বেড়েছে ভাঙন আতঙ্ক

০৮:৪০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহরাবাড়ী স্পারের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে যমুনার তীব্র স্রোত ও পানির চাপে স্পারের উত্তর পাশের অংশ ধসে পড়ে। এতে যমুনা তীরবর্তী শহরাবাড়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আটাচর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত ৭০০ মিটার দীর্ঘ শহরাবাড়ী স্পার নির্মাণ করা হয়। স্পারটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ভাটির এলাকার নদীতীরবর্তী মানুষ নদীভাঙনের হাত থেকে সুরক্ষা পেলেও, প্রায় প্রতি বছরই এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারাবাহিক ভাঙনের ফলে বর্তমানে স্পারটির দৈর্ঘ্য কমে প্রায় ২০০ মিটারে নেমে এসেছে।
রোববার সকালে পানির তীব্র স্রোতে স্পারের উত্তরাংশের প্রায় ৪০ মিটার সিসি ব্লক (স্যাংক) ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বালির টিউব ফেলে ধস রোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শহরাবাড়ী ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই স্পারের কারণেই শহরাবাড়ী ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু গত বছর ঘাটের একটি অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এ বছরও কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন স্পারের একটি অংশ ধসে পড়ায় আমরা আরও আতঙ্কিত। স্পারটি রক্ষা করা না গেলে শহরাবাড়ী গ্রামটি একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দেড় মাস ধরে স্পারের ভাটির দিকের শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র ২০০ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছে। এতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারা স্পার সংরক্ষণ এবং ভাটির এলাকায় স্থায়ী ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, রোববার সকালে শহরাবাড়ী স্পারের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও বালির টিউব ফেলে ধস ঠেকানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।