০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ধুনটে কালভার্ট ধসে ১৫ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

  • Reporter Name
  • ০১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • 97

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি-হেউটনগর সড়কের একটি কালভার্ট হঠাৎ ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। টানা বর্ষণে পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সোমবার সকালে কালভার্টটি পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধসে পড়ে। এতে উপজেলার নিমগাছি ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অর্থায়নে ২০০১ সালে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। তবে অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে কালভার্টটি দীর্ঘদিন টেকসই হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এটি নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আশপাশের মাঠে পানি জমে যায়। পরে সেই পানি প্রবল স্রোতে নিষ্কাশনের সময় পানির চাপে কালভার্টের এক পাশের মাটি সরে গিয়ে এটি ধসে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও কালভার্টটি দুই পাশের পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হঠাৎ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে বিকল্প পথে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে কালভার্টটি টেকসই হয়নি। নির্মাণের পর থেকেই এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি ও পানির চাপেই এটি ধসে পড়েছে। দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপাতত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সেখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধুনটে কালভার্ট ধসে ১৫ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

০১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি-হেউটনগর সড়কের একটি কালভার্ট হঠাৎ ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। টানা বর্ষণে পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সোমবার সকালে কালভার্টটি পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধসে পড়ে। এতে উপজেলার নিমগাছি ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অর্থায়নে ২০০১ সালে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। তবে অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে কালভার্টটি দীর্ঘদিন টেকসই হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এটি নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আশপাশের মাঠে পানি জমে যায়। পরে সেই পানি প্রবল স্রোতে নিষ্কাশনের সময় পানির চাপে কালভার্টের এক পাশের মাটি সরে গিয়ে এটি ধসে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও কালভার্টটি দুই পাশের পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হঠাৎ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে বিকল্প পথে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে কালভার্টটি টেকসই হয়নি। নির্মাণের পর থেকেই এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি ও পানির চাপেই এটি ধসে পড়েছে। দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপাতত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সেখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হবে।”