০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধুনটে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্ত্রীর অর্থ আত্মসাত ও হুমকির অভিযোগ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্ত্রীকে প্রবাসে পাঠিয়ে পুনরায় বিবাহ করেছে আকুল রাজ নামে এক ব্যক্তি। এছাড়াও প্রবাসীর স্ত্রীর অর্থ আত্মসাত করে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী আকুল রাজ সহ ৬ জনের  বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাস ফেরৎ গৃহবধূ।

অভিযোগে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাজবাড়ী সদর থানার ফরিদপুর রাজবাড়ী গ্রামের ওহাব সরকারের মেয়ে মরিয়ম বেগম। আত্মীয়তার সূত্রধরে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভূতবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে আকুল রাজের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সূত্রধরে দুজনের মধ্যে প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চার বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর সংসার করে আসছিল।

অভিযোগে দাবী করা হয় বিবাহের সময় স্বামীকে ৩ লাখ টাকা ও তার দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিলো। দাম্পত্য জীবনের দু’বছরের মাথায় মরিয়মকে সৌদি আরবে পাঠায় স্বামী আকুল রাজ। এসময় নিজের স্বর্ণালংকার বাড়ি রেখে সে বিদেশ পাড়ি দেয়। এছাড়া প্রতিমাসে বেতন পাওয়ার পর স্বামী ও শ্বশুড়ের নিকট টাকা পাঠায় মরিয়ম।

এদিকে প্রায় ৫ মাস আগে প্রবাসী স্ত্রী মরিয়মকে না জানিয়ে তার স্বামী আকুল রাজ পার্শ্ববর্তি গ্রামের এক মেয়েকে বিবাহ করে ঘরে তোলে। এরআগে স্বামীকে নতুন করে বিবাহ না করার জন্য আকুতি জানায় মরিয়ম। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে স্বামী ও শ্বশুড় বাড়ির লোকজন। বাধ্য হয়ে সৌদি আরব থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে স্বামীর বাড়িতে আসেন মরিয়ম। কিন্তু তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করে আকুল রাজ।

প্রবাস ফেরৎ গৃহবধূ মরিয়ম বেগম বলেন ‘আমি স্ত্রী মর্যাদা চাই। তারা মৌখিক ভাবে আমাকে তালাক দেয়া হয়েছে বলছে। কিন্তু আমার অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরৎ দেয়নি। এমনকি তালাকের কাগজও দেয়নি। উল্টো স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখায়। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত আকুল রাজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বাবা হাবিবর রহমান বলেন ‘আমরা তাকে (মরিয়ম) তালাক পরবর্তি তিন মাসের খরচ দিতে চেয়েছি। উল্টো সে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।’

ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাস ফেরৎ গৃহবধুর অভিযোগটি পুলিশ তদন্ত করছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

ধুনটে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্ত্রীর অর্থ আত্মসাত ও হুমকির অভিযোগ

১১:০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্ত্রীকে প্রবাসে পাঠিয়ে পুনরায় বিবাহ করেছে আকুল রাজ নামে এক ব্যক্তি। এছাড়াও প্রবাসীর স্ত্রীর অর্থ আত্মসাত করে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী আকুল রাজ সহ ৬ জনের  বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাস ফেরৎ গৃহবধূ।

অভিযোগে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাজবাড়ী সদর থানার ফরিদপুর রাজবাড়ী গ্রামের ওহাব সরকারের মেয়ে মরিয়ম বেগম। আত্মীয়তার সূত্রধরে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভূতবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে আকুল রাজের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সূত্রধরে দুজনের মধ্যে প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চার বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর সংসার করে আসছিল।

অভিযোগে দাবী করা হয় বিবাহের সময় স্বামীকে ৩ লাখ টাকা ও তার দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিলো। দাম্পত্য জীবনের দু’বছরের মাথায় মরিয়মকে সৌদি আরবে পাঠায় স্বামী আকুল রাজ। এসময় নিজের স্বর্ণালংকার বাড়ি রেখে সে বিদেশ পাড়ি দেয়। এছাড়া প্রতিমাসে বেতন পাওয়ার পর স্বামী ও শ্বশুড়ের নিকট টাকা পাঠায় মরিয়ম।

এদিকে প্রায় ৫ মাস আগে প্রবাসী স্ত্রী মরিয়মকে না জানিয়ে তার স্বামী আকুল রাজ পার্শ্ববর্তি গ্রামের এক মেয়েকে বিবাহ করে ঘরে তোলে। এরআগে স্বামীকে নতুন করে বিবাহ না করার জন্য আকুতি জানায় মরিয়ম। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে স্বামী ও শ্বশুড় বাড়ির লোকজন। বাধ্য হয়ে সৌদি আরব থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে স্বামীর বাড়িতে আসেন মরিয়ম। কিন্তু তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করে আকুল রাজ।

প্রবাস ফেরৎ গৃহবধূ মরিয়ম বেগম বলেন ‘আমি স্ত্রী মর্যাদা চাই। তারা মৌখিক ভাবে আমাকে তালাক দেয়া হয়েছে বলছে। কিন্তু আমার অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরৎ দেয়নি। এমনকি তালাকের কাগজও দেয়নি। উল্টো স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখায়। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত আকুল রাজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বাবা হাবিবর রহমান বলেন ‘আমরা তাকে (মরিয়ম) তালাক পরবর্তি তিন মাসের খরচ দিতে চেয়েছি। উল্টো সে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।’

ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাস ফেরৎ গৃহবধুর অভিযোগটি পুলিশ তদন্ত করছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।