বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সরকারি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা কেটে পুকুর খননের অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ধুনট উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সরকারি সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে জমি মাপজোক করেন। মাপজোকের পর দেখা যায়, ১৩ ফুট চওড়া ওই সরকারি রাস্তার ১০ ফুটই কেটে পুকুরের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল প্রতাব খাদুলী গ্রামের সাধারণ মানুষের পক্ষে একই গ্রামের নুরুন্নবী শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরকারি রাস্তা কেটে পুকুর খননের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৬৯ নম্বর প্রতাব খাদুলী মৌজার ৬৯১ নম্বর দাগে রেকর্ডভুক্ত একটি সরকারি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন।
কিন্তু প্রতাব খাদুলী গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিন শেখের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক শেখ কয়েক বছর আগে তাঁর নিজ ধানিজমিতে পুকুর খনন করেন। এ সময় তিনি জোরপূর্বক ৬৯১ নম্বর দাগের সরকারি কাঁচা রাস্তার ১০ ফুট অংশ কেটে পুকুরের মধ্যে ফেলে দেন। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
এরপর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী সরকারি ওই কাঁচা রাস্তা রক্ষার জন্য আব্দুর রাজ্জাক শেখের কাছে অনুরোধ করেন। গ্রামবাসীর বারবার অনুরোধ ও নিষেধ সত্ত্বেও তিনি জোরপূর্বক পুকুর খনন করেন এবং রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী করে রাখেন।
বর্তমানে ওই গ্রামের মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় ভ্যান, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারছে না। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বুধবার সরেজমিনে সার্ভেয়ার পাঠায়।
সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ওই রাস্তার মাপজোক করা হয়েছে। মাপজোক শেষে দেখা যায়, সরকারি রেকর্ডভুক্ত কাঁচা রাস্তাটির ১৩ ফুট অংশের মধ্যে ১০ ফুট পুকুরের মধ্যে চলে গেছে।
বাবুল ইসলাম 









