সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে ভেসে আসে নবজাতক শিশুর কান্নার আওয়াজ। কান্নার শব্দ শুনে আর দেরি না করে জঙ্গলের দিকে ছুটে যান গৃহবধূ সেফালি বেগম। সেখানে গিয়ে কাপড়ে পেঁচানো অবস্থায় এক নবজাতক ছেলে শিশুকে দেখতে পান তিনি। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে কোলে তুলে নেন সেফালি।
সেফালি বেগম বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বগুয়াডহুরী গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে পূর্বগুয়াডহুরী গ্রামের একটি জঙ্গলের ভেতর অজ্ঞাত কেউ একদিন বয়সী নবজাতক ছেলে শিশুটিকে কাপড়ে পেঁচিয়ে ফেলে রেখে যায়। ভোরের দিকে জঙ্গল থেকে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দা সেফালি বেগম। পরে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কোলে তুলে নেন।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে দুপুর ১২টার দিকে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল কাফি নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে শিশুটির দেখভালের জন্য সেফালি বেগমও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন।
সেফালি বেগম বলেন, আমার চার মেয়ে। কোনো ছেলে সন্তান নেই। ভাগ্য আমাকে সহায়তা করেছে। আমি তাকে কুড়িয়ে পেয়েছি। আমি এই শিশুটির মা হতে চাই।
ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধারের পর অনেকেই তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে শিশুটিকে কার কাছে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জাহিদুল ইসলাম 






















