০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ধুনটে ধসে পড়া সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী-হাটশেরপুর সড়কের চরকাদহ খালের ওপর ধসে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারী ও হালকা যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সাঁকো নির্মাণ করেছে।
বুধবার সকাল থেকে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে পারাপারের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করছে। এতে সাময়িক হলেও স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
এর আগে গত ২২ জুন সকাল ৮টার দিকে টানা ভারী বর্ষণে খালের পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়ে এবং মূল সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা যায়, ২০০৭ সালে নিমগাছী-হাটশেরপুর গ্রামীণ সড়কের চরকাদহ খালের ওপর প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়। বিশেষ করে খালের দুই তীরের বিস্তীর্ণ ফসলি এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণে সেতুটি দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সড়কে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এর গুরুত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
কান্তনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক তবিবর রহমান বলেন, “চরকাদহ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। আমি প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাতায়াত করি। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। আমার মতো তারাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি মিলেছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হাসান বলেন, “পুরোনো সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধুনটে ধসে পড়া সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

১১:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী-হাটশেরপুর সড়কের চরকাদহ খালের ওপর ধসে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারী ও হালকা যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সাঁকো নির্মাণ করেছে।
বুধবার সকাল থেকে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে পারাপারের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করছে। এতে সাময়িক হলেও স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
এর আগে গত ২২ জুন সকাল ৮টার দিকে টানা ভারী বর্ষণে খালের পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়ে এবং মূল সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা যায়, ২০০৭ সালে নিমগাছী-হাটশেরপুর গ্রামীণ সড়কের চরকাদহ খালের ওপর প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়। বিশেষ করে খালের দুই তীরের বিস্তীর্ণ ফসলি এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণে সেতুটি দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সড়কে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এর গুরুত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
কান্তনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক তবিবর রহমান বলেন, “চরকাদহ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। আমি প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাতায়াত করি। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। আমার মতো তারাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি মিলেছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হাসান বলেন, “পুরোনো সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”