০৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে তাড়াশে নুয়ে পড়েছে পাকা বোরো ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান নুয়ে পড়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। কিন্তু এ সময়ে টানা বৃষ্টি হওয়ায় মাঠে থাকা ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগামী দুইদিন রোদ না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে অনেক স্থানে ধান নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জমিতে কেটে রাখা ধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল রক্ষায় পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন তারা।

কাস্তা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ইতোমধ্যে চরম ক্ষতি হয়েছে। আগে এক একর জমিতে প্রায় ৪০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন হয়তো ৩০ মণ হবে।”

মাঝদক্ষিনা গ্রামের কৃষক ইসরাফিল হোসেন বলেন, “আকাশ পরিষ্কার থাকায় ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠে রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে এখন দুশ্চিন্তায় আছি।”

গুল্টা গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী বাবু জানান, জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরানো না গেলে নুয়ে পড়া পাকা ও আধাপাকা ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে।

বস্তুল গ্রামের কৃষক বুলবুল হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল ও জলাশয় দখল, পুকুর খননসহ নানা কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “বোরো ধানের জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য সব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

কালবৈশাখীর বজ্রপাতে মেহেন্দিগঞ্জের দুই স্কুলে শিক্ষকসহ আহত ১৬

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে তাড়াশে নুয়ে পড়েছে পাকা বোরো ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

০৩:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান নুয়ে পড়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। কিন্তু এ সময়ে টানা বৃষ্টি হওয়ায় মাঠে থাকা ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগামী দুইদিন রোদ না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে অনেক স্থানে ধান নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জমিতে কেটে রাখা ধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ফসল রক্ষায় পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন তারা।

কাস্তা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ইতোমধ্যে চরম ক্ষতি হয়েছে। আগে এক একর জমিতে প্রায় ৪০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন হয়তো ৩০ মণ হবে।”

মাঝদক্ষিনা গ্রামের কৃষক ইসরাফিল হোসেন বলেন, “আকাশ পরিষ্কার থাকায় ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠে রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে এখন দুশ্চিন্তায় আছি।”

গুল্টা গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী বাবু জানান, জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরানো না গেলে নুয়ে পড়া পাকা ও আধাপাকা ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে।

বস্তুল গ্রামের কৃষক বুলবুল হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল ও জলাশয় দখল, পুকুর খননসহ নানা কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, “বোরো ধানের জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য সব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।”