০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ধুনটে থামছে না যমুনার ভাঙন হুমকিতে বসতভিটা ও ফসলি জমি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এ ভাঙনে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরাবাড়ী স্পার থেকে বানিয়াজান স্পার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরে অবস্থিত শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের শুরু থেকে উজানের ঢলে যমুনার পানি বাড়তে থাকে। পরে নদীর তীরে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হলে গত ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নদীতীর ধসে পড়ছে।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলছে। তবে অনেক স্থানে সেগুলোও ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকের পাট ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলসহ নদীতীরের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন দেখতে প্রতিদিনই নদীতীরে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
শহরাবাড়ী গ্রামের কৃষক শামছুল হক বলেন, “নদী আগে অনেক দূরে ছিল। ঋণ করে পাট চাষ করেছি, কিন্তু কয়েক দিনের ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ভিটেমাটিও হারানোর শঙ্কায় আছি।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং দুই গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, শহরাবাড়ী এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধুনটে প্রতারণা মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

ধুনটে থামছে না যমুনার ভাঙন হুমকিতে বসতভিটা ও ফসলি জমি

০৬:২৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এ ভাঙনে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরাবাড়ী স্পার থেকে বানিয়াজান স্পার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরে অবস্থিত শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের শুরু থেকে উজানের ঢলে যমুনার পানি বাড়তে থাকে। পরে নদীর তীরে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হলে গত ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নদীতীর ধসে পড়ছে।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলছে। তবে অনেক স্থানে সেগুলোও ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকের পাট ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলসহ নদীতীরের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন দেখতে প্রতিদিনই নদীতীরে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
শহরাবাড়ী গ্রামের কৃষক শামছুল হক বলেন, “নদী আগে অনেক দূরে ছিল। ঋণ করে পাট চাষ করেছি, কিন্তু কয়েক দিনের ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ভিটেমাটিও হারানোর শঙ্কায় আছি।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং দুই গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, শহরাবাড়ী এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।