০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ধুনটে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন।

রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চাকরি বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচথুপি গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে মিনা খাতুনের সঙ্গে ২০০৬ সালে একই উপজেলার কাশিয়াহাটা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

২০২০ সালের ২৫ আগস্ট স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী মিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর মিনা খাতুন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আদালত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠায়। তবে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পরে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং কারাগারে থাকা অবস্থায়ও বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। এ ঘটনায় মিনা খাতুন ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় অভিযোগ করেও ফল না পেয়ে তিনি ৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গত ৯ এপ্রিল জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধুনটে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত

ধুনটে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত

০৮:৩১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন।

রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চাকরি বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচথুপি গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে মিনা খাতুনের সঙ্গে ২০০৬ সালে একই উপজেলার কাশিয়াহাটা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

২০২০ সালের ২৫ আগস্ট স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রী মিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর মিনা খাতুন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে, স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আদালত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠায়। তবে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পরে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীর আলম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং কারাগারে থাকা অবস্থায়ও বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। এ ঘটনায় মিনা খাতুন ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় অভিযোগ করেও ফল না পেয়ে তিনি ৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গত ৯ এপ্রিল জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।