০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাসে একদিন হাজিরা, পুরো মাসের বেতন-ধুনটে শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আফরিনা রহমানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাসে মাত্র একদিন কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে তিনি এ সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের আতাউর রহমানের মেয়ে আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বিধি অনুযায়ী তিনি ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর তিনি মাসে একদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা শুনেছি গণিত বিষয়ের একজন ম্যাডাম স্কুলে যোগদান করেছেন। কিন্তু তাকে কোনো দিন স্কুলে দেখিনি, এমনকি তার নামও জানি না। গণিত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন শিক্ষক না থাকায় আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকরা বলেন, ওই শিক্ষিকার যদি চাকরির প্রয়োজন না থাকে, তবে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা আফরিনা রহমান বলেন, আমাকে বিনাবেতনে ছুটিতে রাখার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে যে কয়েক মাসের বেতন উত্তোলন করেছি, সে সময়গুলোর হাজিরা খাতায় আমার স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, যোগদানের পর তিনি মাত্র দুই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রতি মাসেই বেতন উত্তোলন করেছেন। তাকে বারবার তাগিদ দিয়েও বিদ্যালয়ে উপস্থিত করানো যায়নি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণিত বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাসে একদিন হাজিরা, পুরো মাসের বেতন-ধুনটে শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক

মাসে একদিন হাজিরা, পুরো মাসের বেতন-ধুনটে শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক

০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আফরিনা রহমানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাসে মাত্র একদিন কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে তিনি এ সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের আতাউর রহমানের মেয়ে আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বিধি অনুযায়ী তিনি ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর তিনি মাসে একদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা শুনেছি গণিত বিষয়ের একজন ম্যাডাম স্কুলে যোগদান করেছেন। কিন্তু তাকে কোনো দিন স্কুলে দেখিনি, এমনকি তার নামও জানি না। গণিত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন শিক্ষক না থাকায় আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকরা বলেন, ওই শিক্ষিকার যদি চাকরির প্রয়োজন না থাকে, তবে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা আফরিনা রহমান বলেন, আমাকে বিনাবেতনে ছুটিতে রাখার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে যে কয়েক মাসের বেতন উত্তোলন করেছি, সে সময়গুলোর হাজিরা খাতায় আমার স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, যোগদানের পর তিনি মাত্র দুই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রতি মাসেই বেতন উত্তোলন করেছেন। তাকে বারবার তাগিদ দিয়েও বিদ্যালয়ে উপস্থিত করানো যায়নি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গণিত বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।